কাবাবে হাড্ডি - jonakiict school

Latest News

কাবাবে হাড্ডি



 এক তরুণী একদিন তার মাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় গেল। উদ্দেশ্য—তার স্বামী আর শ্বশুরবাড়ির লোকেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা।

ডিউটিরত অফিসার মেয়েটির দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করলেন—
“তোমার স্বামী কি তোমাকে মারধর করে?”
মেয়েটি মাথা নাড়ল, “না।”
“তোমার কাছ থেকে কি কেউ কিছু আনতে বলে?”
“না।”
“খাবারদাবারে বঞ্চিত করে না তো?”
“না।”
“তোমার শ্বশুর, শাশুড়ি কি তোমাকে কটূ কথা বলেন?”
“না, তাও না।”
অফিসার কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর মেয়েটির মা আবেগে বললেন,
“স্যার, আমার মেয়ে খুব কষ্টে আছে। ওর সঙ্গে অন্যায় হচ্ছে।”
অফিসার একটু হেসে জিজ্ঞাসা করলেন,
“মা, আপনি কি বাড়িতে দই রাখেন?”
মা বললেন, “অবশ্যই রাখি।”
অফিসার আবার বললেন, “তাহলে বলুন তো, আপনি যদি দই জমার আগে বারবার আঙুল দিয়ে নাড়েন, সেটা ঠিকভাবে জমবে?”
মা অবাক হয়ে বললেন, “না, একদমই না।”
অফিসার মৃদু হেসে বললেন,
“আপনার মেয়েও এখন নতুন সংসারে দুধ থেকে দই হওয়ার পথে। সংসার নামের এই ঘরটা সময় চায়, স্থিরতা চায়। আপনি যদি বারবার সেখানে হস্তক্ষেপ করেন, ওর জীবন ঠিকভাবে জমতে পারবে না। ওর ওপর বিশ্বাস রাখুন, ওকে সময় দিন। একটু ভুল-সঠিক, মান-অভিমান হতেই পারে—কিন্তু প্রতিটি সম্পর্কের ভিত শক্ত হয় সময়, সহনশীলতা আর বোঝাপড়ার উপর।”
সেদিন থানার ঘরটিতে এক গভীর নীরবতা নেমে এলো। মেয়েটির চোখে জল, কিন্তু সেই চোখে একটা নতুন বোধও ছিল—স্বাধীনভাবে দাঁড়াবার, নিজের সংসারটা নিজের মতো করে গড়ার ইচ্ছা।
জীবনের এই শিক্ষা সবার জন্য—
বিয়ের পর মেয়েকে তার নতুন সংসারে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিন। প্রতিটি সম্পর্কের মতো বিয়েও সময় চায়, বিশ্বাস চায়। বাবা-মায়ের বাড়ি থেকে অতিরিক্ত টানাপোড়েন সংসারকে নাড়িয়ে দেয়। ভালোবাসা মানে শুধু পাশে থাকা নয়, মাঝে মাঝে একটু দূর থেকেও বিশ্বাস রাখতে শেখা।
শেষে একটা সত্যি কথা —
যে মেয়েটি নিজের বাপেরবাড়ির পরামর্শে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেয়, সে হয়তো নিজের সংসারের পাঠটা ঠিকমতো শেখে না। আর যে মেয়েটি নিজের অভিজ্ঞতায় ভুলে-সঠিক খুঁজে নেয়, সে-ই সংসারের সত্যিকার দুধ থেকে দই হয়ে ওঠে।
সংগৃহীত


jonakiict school Designed by Templateism.com Copyright © 2014

Powered by Blogger.
Published By Gooyaabi Templates